Bangladesh ই-ট্যাক্স রিটার্ন ২০২৬: অনলাইনে আয়কর জমার A to Z নির্দেশিকা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এর অফিসিয়াল পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) ধাপে ধাপে রিটার্ন জমা দিন।
বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ডিজিটাল পদ্ধতি এখন অত্যন্ত সহজ ও জনপ্রিয়। ২০২৫-২৬ করবর্ষে ইতিমধ্যে ২০ লক্ষেরও বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক চালু করা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই খুব সহজে আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
📌 ই-রিটার্ন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ই-রিটার্ন হলো অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি। এর মাধ্যমে আপনি:
- ✅ ঘরে বসে যেকোনো সময় (২৪/৭) রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
- ✅ কোনো কাগজপত্র আপলোডের প্রয়োজন নেই (শুধু তথ্য দিলেই হয়)।
- ✅ জমা দেওয়ার সাথে সাথেই স্বীকৃতিপত্র (Acknowledgement Slip) ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারেন।
- ✅ সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয় এবং ঝামেলা এড়ানো যায়।
👥 কাদের জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক?
২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিচের ব্যক্তিরা ছাড়া সব ধরনের করদাতার জন্য ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক:
- ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক
- শারীরিক প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা
- প্রবাসী বাংলাদেশী
- মৃত করদাতার আইনী প্রতিনিধি
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিক
🔹 তবে তারাও চাইলে স্বেচ্ছায় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
📋 ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপ (ধাপে ধাপে)
📌 ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন
- প্রথমে www.etaxnbr.gov.bd-এ যান।
- আপনার টিআইএন (TIN) ও বায়োমেট্রিক যাচাইকৃত মোবাইল নম্বর দিন।
- প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একাউন্ট খুলুন ও পাসওয়ার্ড সেট করুন।
📌 ধাপ ২: ফর্ম পূরণ
- লগইন করার পর “নতুন রিটার্ন দাখিল” অপশনে ক্লিক করুন।
- করবর্ষ (যেমন- ২০২৫-২৬) নির্বাচন করুন।
- আপনার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-দেনার তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
- আপডেট: আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে দেওয়া অগ্রিম আয়কর (AIT) স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্মে দেখাবে।
📌 ধাপ ৩: কর পরিশোধ (যদি প্রযোজ্য হয়)
- ফর্ম পূরণের পর আপনার কর পরিশোধের প্রয়োজন হলে পেমেন্ট অপশনে চলে যান।
- অনলাইনে কর জমা দেওয়ার মাধ্যম:
- ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড
- ইন্টারনেট ব্যাংকিং
- মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট)
- এ-চালান তৈরি করে তা পরিশোধ করুন।
📌 ধাপ ৪: জমা ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড
- সব তথ্য ঠিক থাকলে “জমা দিন” বাটনে ক্লিক করুন।
- সাথে সাথেই স্বীকৃতিপত্র (Acknowledgement Slip) ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।
- ভবিষ্যতের জন্য এটি সংরক্ষণ করুন।
✈️ প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
প্রবাসীরা নিচের ইমেইলে তাদের পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন:
ereturn@etaxnbr.gov.bd
এরপর তারা ইমেইলে একটি OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাবেন, যা দিয়ে প্রবাস থেকে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
⏰ সময়মত রিটার্ন না দিলে কী হবে?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে:
- 📉 মাসিক ২% হারে সুদ দিতে হবে (বকেয়া করের ওপর)।
- 📋 জরিমানা ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হতে পারে।
- 🔹 তাই ৩০ নভেম্বর-এর আগেই রিটার্ন জমা দেওয়ার চেষ্টা করুন।
📞 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও হেল্পডেস্ক
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| করবর্ষ | ১ জুলাই - ৩০ জুন |
| জমার শেষ তারিখ | সাধারণত ৩০ নভেম্বর (নিয়মিত আপডেট চেক করুন) |
| হেল্পলাইন | ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১ |
| ইমেইল সাপোর্ট | ereturn@etaxnbr.gov.bd |
| সাহায্য ডেস্ক | সব ট্যাক্স জোনে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক রয়েছে। |
🔥 সাম্প্রতিক আপডেট (২০২৬)
- ✅ ইতিমধ্যে ৪৬ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত হয়েছেন ।
- ✅ প্রায় ৪,০০০ প্রবাসী বাংলাদেশী ইতিমধ্যে ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন ।
- ✅ স্বেচ্ছায় ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার হার বাড়ছে।
- ✅ আমদানিকারকদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স ক্রেডিট সিস্টেম চালু হয়েছে।
❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ই-রিটার্ন জমা দিতে কি কোনো ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে?
উত্তর: না, শুধু তথ্য দিলেই হবে। কোনো ডকুমেন্ট আপলোডের প্রয়োজন নেই। পরে কর কর্তৃপক্ষ চাইলে ডকুমেন্ট যাচাই করতে পারেন।
প্রশ্ন: আমি কি অন্যের হয়ে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারি?
উত্তর: হ্যাঁ, অনুমোদিত প্রতিনিধি (যেমন কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) করদাতার পক্ষে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
প্রশ্ন: ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরলে কী করব?
উত্তর: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার লগইন করে সংশোধিত অপশন নির্বাচন করুন।
প্রশ্ন: প্রবাসে থেকে কীভাবে ই-রিটার্ন জমা দেব?
উত্তর: নির্দিষ্ট ইমেইলে (ereturn@etaxnbr.gov.bd) পাসপোর্ট ও এনআইডি তথ্য পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন, তারপর অনলাইনে জমা দিন।
প্রশ্ন: ই-রিটার্নের জন্য কি ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া উপায় আছে?
উত্তর: নিকটস্থ ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্কে গিয়ে সহায়তা নিতে পারেন।
📌 শেষকথা
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ই-রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সময়মতো ও নির্ভুলভাবে ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে আপনি দেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে পারেন। NBR-এর নির্দেশনা অনুসরণ করে সহজেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং আয়কর সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্ন কমেন্টে জানান।
Post a Comment
0Comments